
ঘিওর,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের ঘিওরে দূর সম্পর্কের এক চাচার সঙ্গে প্রেমঘটিত টানাপোড়েনের জেরে সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এক কলেজ পড়ুয়া তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার বিকেলে ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত পেঁচারকান্দা সেতুতে।
স্থানীয়দের তৎপরতায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার
হওয়া ওই তরুণীর নাম পাপিয়া সরকার (ছদ্মনাম) (১৮) কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়েছে। সে স্থানীয় বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।
এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত দূর সম্পর্কের চাচা সুফল সরকারের বিরুদ্ধে ঘিওর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা
। অভিযুক্ত সুফল পার্শ্ববর্তী বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের সাইংজুরী গ্রামের মৃত গৌড় সরকারের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও থানা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাপিয়া সরকারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সাইংজুরী গ্রামের মৃত গৌড় সরকারের ছেলে ও সম্পর্কে দূর সম্পর্কের চাচা সুফল সরকারের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক চলছিল । সম্প্রতি তাদের এই সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সুফলকে পাপিয়া সরকারের ( ছদ্মনাম ) সঙ্গে
বিয়ের কথা বললে সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এরপর থেকে সুফল সরকার ওই তরুণীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এরই প্রেক্ষিতে
গত রবিবার বিকেলে নিজের সম্পর্কের সামাজিক ও পারিবারিক স্বীকৃতি না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও অভিমানে “একটি চিরকুট লিখে রেখে”
ধলেশ্বরী নদীর পেঁচারকান্দা সেতু থেকে নিচে ঝাঁপ দেয় পাপিয়া সরকার (ছদ্মনাম) ।
তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা ধলেশ্বরী নদীতে উদ্ধার অভিযান চালায়। সৌভাগ্যবশত দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে নদী থেকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরবর্তীতে তার মুখ থেকেই বেরিয়ে আসে এই অসম প্রেমের আসল রহস্য।
বিষয়টি বিয়ের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
ভুক্তভোগী পাপিয়া সরকারের (ছদ্মনাম) দাবি, বিয়ের প্রলোভনে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে সুফল। এক পর্যায়ে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে চাওয়ায় মানসিক ডিপ্রেশন থেকে নদীতে ঝাঁপ দেয় সে।
ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা জানান, সুফল দূর সম্পর্কের আত্মীয় । সম্পর্কে মেয়ের চাচা হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কটি সম্প্রতি প্রকাশ পায়। এরপর বিষয়টি পারিবারিকভাবে সুফলকে বিয়ের জন্য বলা হলে সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর তার মেয়ের সাথে ওই ছেলে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে চায়। বাধ্য হয়ে মানসিক অশান্তি থেকে তার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। মেয়েটি বেঁচে ফিরলেও যেহেতু বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়েছে তার মেয়ের ভবিষ্যৎ কি হবে। তাই আইনের আশ্রয় নিতে থানায় অভিযোগ করেছি।
এদিকে মেয়ের জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া এবং আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করার অপরাধে সুফলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
সরজমিনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুফল সরকার ও তার পরিবার কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।
এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, তরুণী কর্তৃক সেতু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
⏳ জাদুকরী উপায়ে কার্ডটি ফুল এইচডিতে রেন্ডার হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করুন...

