
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১২ নং রোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হালিমের দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। মাসের প্রায় ২০ দিনই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম, জনসেবা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হালিমকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার অবস্থান ও অনুপস্থিতির কারণ জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ রহুল আমিনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণ এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানা যায়নি।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা অনুপস্থিত, জনসেবা চলছে কার মাধ্যমে?
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্রের উদ্যোক্তাকে দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টি সত্য হলে প্রশ্ন উঠছে—একজন ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্রের উদ্যোক্তা ঠিক কতটুকু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন, কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে করছেন এবং সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা কোথায়?
ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কাজে সাধারণ মানুষকে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কি না, সেবার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে কি না এবং দাপ্তরিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।
সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তার কর্মস্থলে উপস্থিতি, দায়িত্ব পালন এবং ছুটি বা অনুপস্থিতির যথাযথ অনুমোদন রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।
কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়?
একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা যদি মাসের উল্লেখযোগ্য সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে তার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দাপ্তরিক কার্যক্রম তদারকি এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। এ ক্ষেত্রে রোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হালিমের অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কারণ, তার ছুটি বা অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য এবং ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্রের উদ্যোক্তার মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি: রোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার উপস্থিতির রেকর্ড যাচাই, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিধিবিধান অনুসরণ এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
জনগণের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। সরকারি সেবায় অনিয়ম বা অবহেলার অভিযোগ উঠলে তার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সত্য উদ্ঘাটনই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।
⏳ জাদুকরী উপায়ে কার্ডটি ফুল এইচডিতে রেন্ডার হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করুন...

