
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি,সঞ্জু বনিক সৌরভ:
মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করে তুলতে পঞ্চগড়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্তসহ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। নিজ এলাকার শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে এ আয়োজন করেন সাংবাদিক আবু নাঈম।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ২ নম্বর হাফিজাবাদ ইউনিয়নের রাজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চ্যানেল ওয়ানের পঞ্চগড় প্রতিনিধি আবু নাঈমের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, বই ও গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাজুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়া জীবনের শেষ অর্জন নয়; বরং এটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি ধাপ। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম ও সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জীবনে সফল হতে শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না, ভালো মানুষও হতে হবে। ভবিষ্যতে কেউ ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, সাংবাদিক কিংবা দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যাবে। আজকের ছোট ছোট পরিশ্রমই একদিন বড় স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করবে। ব্যর্থতা এলে হতাশ না হয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার চেষ্টা করতে হবে।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নতুন স্বপ্ন ও প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করে। তাই মেধাবীদের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
আয়োজক সাংবাদিক আবু নাঈম বলেন, একজন শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করলে শুধু সে নয়, তার পরিবার, শিক্ষক এবং পুরো এলাকাই গর্বিত হয়। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্যই এই আয়োজন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার পাশাপাশি গাছের চারা দেওয়ার মধ্য দিয়ে জ্ঞানচর্চার সঙ্গে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরির একটি ছোট বার্তা দিতে চেয়েছি। আমাদের এলাকার প্রতিটি শিক্ষার্থী ভালোভাবে পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হোক—এটাই প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মেহেদী হাসান মিলন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কেরামত আলী, রাজমহল আলীম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ এরশাদ আলী, স্কুলশিক্ষক মাহবুব আলমসহ স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও উপহার তুলে দেওয়া হলে তাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। অভিভাবকরাও এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, পড়াশোনায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দিলে তারা যেমন আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা পায়, তেমনি অন্যরাও ভালো ফলাফলের জন্য আগ্রহী হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
⏳ জাদুকরী উপায়ে কার্ডটি ফুল এইচডিতে রেন্ডার হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করুন...

