
হাবিবুর রহমান ( হাবিব):
রাজধানীর সঙ্গে আশুলিয়া ও দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ করতে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া অংশে দুই লেনবিশিষ্ট দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেতু দুটি চালু হওয়ায় এ পথে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফিতা কেটে সার্ভিস সেতু দুটির উদ্বোধন করা হয়। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ১৭ কিলোমিটার। একই সঙ্গে তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি সেতুও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের কার্যকর উদ্যোগে গত ছয় মাসে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ। বক্তারা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর প্রবেশপথে দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, তুরাগ নদের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কের একটি অংশ অপসারণ করা হয়েছে। ফলে এখন চালকরা কোনো টোল ছাড়াই সার্ভিস লেন ব্যবহার করে তুরাগ নদ পারাপার হতে পারবেন।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে রাজধানীর সঙ্গে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একনেক অনুমোদনের প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।
শুরুতে নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে এগোলেও বর্তমানে নির্মাণকাজে গতি ফিরেছে। গত জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুযায়ী ব্যয় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।
সংশোধিত নকশায় উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ এবং বাইপাইলে তৃতীয় তলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের বিষয়ও যুক্ত করা হয়েছে।
সার্ভিস সেতু ও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো চালু হওয়ায় আশুলিয়া-ধউর রুটে যাতায়াত আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি রাজধানীর প্রবেশমুখে যানজট কমানো এবং উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
⏳ জাদুকরী উপায়ে কার্ডটি ফুল এইচডিতে রেন্ডার হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করুন...

