
ছাইম খান গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক গৃহবধূ হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে কাশিয়ানী থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত বর্না খানম (২৮) ও আল আমিন ব্যাপারী ওরফে আলামিন (৩৭) দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছিলেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আল আমিন প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।
গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে আল আমিন, বর্না ও তাদের সন্তানরা কাশিয়ানী উপজেলার ধানকোড়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় বর্নার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। এরপর ৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আল আমিন স্ত্রীকে বাড়ির পেছনের দিকে ডেকে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই সময়ের মধ্যে তিনি বর্না খানমকে হত্যা করেন এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পুকুরের পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানায়, ভেজা কাপড় নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় অভিযুক্তকে তার ছেলে দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় বর্না খানমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে কাশিয়ানী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় কাশিয়ানী থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মো. বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। মামলার পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে প্রধান আসামি আল আমিন ব্যাপারী ওরফে আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন, ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম আইনানুগভাবে চলমান রয়েছে।
⏳ জাদুকরী উপায়ে কার্ডটি ফুল এইচডিতে রেন্ডার হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করুন...

