
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের কড়াইগ্রামে আঃ জব্বারের (কেবিএম) ইটভাটার দক্ষিণ পাশে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ১টি পুরাতন ব্যাটারী আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরির কারখানা চালাচ্ছে।
হুমকির মুখে প্রকৃতিক পরিবেশ জীব ও বৈচিত্র্য।
কারখানার দুষিত ঝাঁজালো ধোঁয়ায় এলাকাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ২৬ থেকে ২৮ বছরের ২০/২৫ জন শ্রমিক কেউ ব্যাটারি থেকে প্লেট বের করছে, কেউ রাতে কাঠ কয়লার আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরি করার জন্য চুলার পাশে প্লেট সাজাচ্ছে।
এই অবৈধ সিসা তৈরির কারখানাটির মালিক মোঃ নাসির উদ্দিন।
তেঘরিয়া ইউনিয়নের কড়াইগ্রাম এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা তোতা মিয়া সহ ২০/২৫ জন লোক বলেন প্রতিদিন রাত ৮:০০ হইতে ভোর ৫:০০ ঘটিকা পর্যন্ত এই কারখানায় যখন ব্যাটারীর প্লেট চুলায় সাজিয়ে দিয়ে বৈদ্যুতিক পাখার সাহায্যে হাওয়া দিয়ে কাঠ কয়লার আগুনে জ্বালিয়ে তরল পদার্থ বানিয়ে সিসা তৈরী করে।
তখন আগুনের শিখা ৪০/৫০ ফুট উপরে ওঠে।
এ ব্যাপারে এলাকার স্থানীয় জনৈক মোঃ আব্দুল মজিদ ও মোঃ শফিক, আবু ইউসুফ, মোঃ জামাল উদ্দিনসহ প্রায় ২০/২৫ জন স্থানীয় বিভিন্ন জেলা হইতে আগত ভাড়াটিয়া লোকজন অভিযোগ করে বলেন প্রতিদিন রাত্রি ৮:০০ ঘটিকা হইতে ভোর ৫:০০ ঘটিকা পর্যন্ত যখন চুল্লিতে কাঠ কয়লার আগুনে পুরাতন ব্যাটারি প্লেট জ্বালিয়ে সিসা তৈরি করে।
তখন এই কারখানার দুষিত এসিডের ঝাঁজালো ধোঁয়া আশেপাশের দুই তিন কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, ফলে বাড়ির ভিতরে থাকা লোকজনের চোখ মূখ জ্বালা করে, ও নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
এই সিসা তৈরির কারখানার ফলে প্রতিনিয়ত এলাকার লোকজন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, বিশেষ করে কোমলমতি শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যায়গায় অভিযোগ দেওয়ার পড়ে কেউ কখনো কোনো ব্যবস্থা নেয় না, যারা আসে টাকা খেয়ে মনের সুখে গান গাইতে গাইতে চলে যায় ,আমরা এদের কাছে অসহায় কখনো জোর করে কাউকে কিছু বলতে পারি না প্রাণভয়ে কারণ এদের অনেক মাস্তান ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী আছে।
কখনো কিছু বলতে গেলেই তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের বিভিন্ন মামলা হামলার ভয় দেখায়,আমরা সবসময় এদের কাছে জিম্মি ও অসহায়।
এলাকাবাসী জানান কারখানাটির দুষিত ধোঁয়া ছাই ও এসিড পানি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের মাঠের ফসল, গাছের ফল,এমনো দেখা যায় গাছে নারিকেল আছে কিন্তু তাতে পানি নেই,নদীর মাছের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে।
এলাকাবাসী আরও জানান এই কারখানার আশপাশের জমি ও মাঠের ঘাস কেটে গবাদিপশুকেও খাওয়াতে পারছেনা পশুর মৃত্যুর ভয়ে।
তারা আরও বলেন এই কারখানার আশেপাশের মাঠের ঘাস খেলেই গরু মারা যাবে এই ধোঁয়া ও ছাই বাতাসে উড়িয়ে যতোদূর গিয়ে পড়বে সেই এলাকার ঘাস খেলেই গরু মারা যায় নিশ্চিত।
এরই সুত্র ধরে গুগলে সার্চ দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা নিউজ ও টেলিভিশন নিউজে জানা যায়।
২০২৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিসা তৈরির কারখানায় ৩ মাসে ২৫টি গরু মারা গেছে।
সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো।
২০২৩ সালে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে সিসা তৈরির কারখানা কারনে ৭ গরুর মৃত্যু।
সুত্রঃ সময়ের কন্ঠস্বর
২০২৩ সালে সিসা কারখানার নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য খালে হবিগঞ্জের মাধবপুরে পানি খেয়ে ১২ গরুর মৃত্যু।
সুত্রঃ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা।
২০২৩ সালে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল সিসা তৈরি কারখানা এলাকার মাঠের ঘাস, লতা ও আঁখের পাতা খেয়ে ১২টি গরু মারা গেছে।
সুত্রঃ বাংলাভিশন টেলিভিশন।
২০২২ সালে ধামরাই সিসা তৈরি কারখানায় তিন মাসে ৮ গরুর মৃত্যু, অসুস্থ অর্ধশতাধিক।
সুত্রঃ দৈনিক জনবানী
২০২২ সালে নরসিংদীর বেলাবতে পাঁচ দিনে হাফিজ অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স নামের একটি খামারে একে একে পাঁচটি গরুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো।
২০২২ সালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সিসা তৈরি কারখানার পাশে দুটি গ্রামে ৩০টি গরুর মৃত্যু।
সুত্রঃ আজকের পত্রিকা।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার চারাতলা নামক স্থানে অবৈধ সীসা কারখানার বিষক্রিয়ায় ১২ টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।
সুত্রঃ Rtv
গুগলে সার্চ দিয়ে জানাযায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন আরও শতাধিক কারখানার কারণে গরু মারা গেছে এমন তথ্য মেলে,আরও জানাযায় দেশের যে যে এলাকায় পুরাতন ব্যাটারী আগুনে জ্বালিয়ে সিসা তৈরির কারখানা করে সেই এলাকার গরু মারা যায়, মাঠের ধান নষ্ট, পুকুর ও বিলের মাছের নিধন হয়েছে।
কারখানার শ্রমিকদের গণমাধ্যম কর্মীরা জিগ্যেস করলে আপনারা এই কারখানায় কাজ করেন কিভাবে এরতো প্রচুর গন্ধ,আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আপনাদের কিছু বলেনা?
শ্রমিকরা বলেন এতে আমাদের শরীরের প্রচুর ক্ষতি হয়,থানা পুলিশ তেমন কিছু বলেনা কিন্তু উপজেলা প্রশাসন বা এসিল্যান্ড, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনকে কেউ জানালে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়।
কারখানাটির মালিক ১।মোঃ নাসির উদ্দিন এর নিকট এই কারখানার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছেকিনা মুঠোফোনে জানতে চাইলে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন,আগে আমি কোনাখোলা কারখানা চালাতাম এখন এখানে চালাচ্ছি, আমাদের কোনো কাগজপত্র নেই লাগেওনা সবাইকে ম্যানেজ করেই কারখানা চালাতে হয়।
আপনারা নিউজ করলে করেন সমস্যা নাই আমরা কোটি টাকার ব্যবসা করি সবাইকে ম্যানেজ করেই চলতে হয়,নিউজ করলে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোক,ইউএনও, এসিল্যান্ড এনারাইতো আসবে দেখা যাবে, আমাদের ক্ষমতাশালী লোকজন আছে,নিউজ করে কি করতে পারেন করেন।
এলাকার সচেতন মহল অতি দ্রুত এই অবৈধ সিসা তৈরির কারখানাটি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আজীবনের উচ্ছেদ করে, কারখানা মালিককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ,ঢাকা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
⏳ জাদুকরী উপায়ে কার্ডটি ফুল এইচডিতে রেন্ডার হচ্ছে, একটু অপেক্ষা করুন...

